‘জঙ্গিবাদের পথ ছাড়লে পুনর্বাসন করা হবে’

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জঙ্গিরা জঙ্গিবাদের পথ পরিহার করলে আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন করা হবে। একইসঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনারোধে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যায় ডিজিটাল তদারকি সিস্টেমের আওতাভুক্ত করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের চতুর্দশ ও শীতকালীন অধিবেশনে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে টেবিলে উত্থাপিত কামাল আহমেদ মজুমদারের (ঢাকা-১৫) ও মোরশেদ আলমের নোয়াখালী-২) প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

কামাল আহমেদ মজুমদারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিদমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভিত্তিতে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে যেসকল বিপদগামী জঙ্গিসদস্য জঙ্গিবাদের পথ থেকে ফিরে আসবে তাদেরকে আইনি সহায়তা প্রদানসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করে। দেশের মানুষের সুষম উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ হুমকিস্বরূপ। সরকার জঙ্গিবাদ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এজন্য জঙ্গিদমনে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গি সংগঠনগুলোর অনলাইন ভিত্তিক প্রচারণার দিকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারি আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবেলার জন্য একটি যুগোপযোগী স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি প্রক্রিয়াধীন। এ সময় তিনি জানান, জঙ্গিবাদ বিরোধী ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, মসজিদের ইমাম, আলেম সমাজ, শিক্ষক-ছাত্র সমাজ, অভিভাবক, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গিবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।