জুন মাস থেকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

নিউজ ডেস্ক: দুই দফায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রশ্নে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রুলে আইন বহির্ভূতভাবে দুই দফায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের জারিকৃত নোটিশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিইআরসি চেয়ারম্যানকে সচিবকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, চলতি বছরের জুন মাস থেকে বাসা-বাড়ি ও শিল্প কারখানায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে যে হার নির্ধারণ করা হয়ে সেই সিদ্ধান্ত ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের ডিভিশন বেঞ্চ আজ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। তবে মার্চ মাস থেকে শিল্প কারখানা ও বাসা বাড়িতে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে তার ওপর কোন হস্তক্ষেপ করেনি হাইকোর্ট।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিইআরসি এক ঘোষণায় দুই ধাপে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে। প্রথম দফায় আগামী পহেলা মার্চ এবং দ্বিতীয় দফায় আগামী পহেলা জুন থেকে নতুন মূল্যহার কার্যকর হবে। দুই ধাপে গ্যাসের দাম গড়ে ২২ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়েছে। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো লাভজনক থাকা সত্ত্বেও সব শ্রেণীর গ্রাহকদের জন্য এ মূল্যহার পুননির্ধারণ করা হয়েছে। ওই ঘোষণা অনুযায়ী, চুলাভিত্তিক গৃহস্থালি গ্যাসের মাসিক বিল দুই দফায় গ্রাহক প্রতি ৩০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আগের বার মূল্য না বাড়ানো হলেও এবার বিদ্যুৎ ও সার খাতের ভোক্তাদের জন্যও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।

গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সোমবার হাইকোর্টে রিট করেন কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর পক্ষে স্থপতি মোবাশ্বের হাসান। রিট আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন-২০০৪ অনুযায়ী বছরে একবারের বেশি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ নেই। অথচ এই দফায় একবারেই দুই ধাপে মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া গণশুনানির মাধ্যমে ৯০ দিন পর গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কথা। কিন্তু এবারের মূল্যবৃদ্ধিতে আইনের সেসব বিধানের ব্যত্যয় ঘটেছে।