ধামরাইয়ে দেশের সর্ববৃহৎ ও উপমহাদেশ খ্যাত যশোমাধবের উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত। মেলা চলবে ১৫দিন

মাহবুবুল আলম রিপন

হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান প্রধান ধর্মীয় উৎসব রয়েছে।তার মধ্যে ধর্মীয় হিসেবে রথযাত্রা রয়েছে অন্যতম উৎসবের দিক। গতকাল শুক্রবার উপদেশ খ্যাত ও দেশের সর্ববৃহৎ ধামরাই যশোমাধবের উল্টো রথযাত্রা মধ্য দিয়ে রথযাত্রা সমাপ্তি হয়েছে।                                                                                                                                                                                                                                                                                       ধামরাইয়ে মাধবমূর্তিকে কেন্দ্র করে চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা ও মেলা। উল্টো রথের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অজিত কুমার চক্রবতী। উল্টো রথযাত্রায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাদ্দেস হোসেন বলেন, রথ উৎসব শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, এ উৎসব এখন সার্বজনীন হয়ে উঠেছে। সাম্প্রদায়িক কোন ভেদাভেদ নেই।  ধামরাইয়ের এই রথমেলায় হিন্দু-মুসলমান বৌদ্ধ, খৃষ্টান সহ হাজার মানুষের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। সকল ভেদাভেদ ভূলে যেয়ে আমরা দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের বাংলাদেশে সবধর্মের লোক মিলেমিশে বাস করে আসছে। 

পাক হানাদার বাহিনী  বৃহৎ রথটি পুড়িয়ে দিলেও তারা সংস্কৃতি, রথ উৎসব ও রথমেলা ধবংস করতে পারেনি । এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন,ঢাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ) সাইদুর রহমান,কেরানীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রামানন্দ সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম, পৌর মেয়র গোলাম কবির,                                                                                                                                                                                          ধামারই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা, যশোমাধব মন্দির পরিচালনা কমিটির  যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন প্রমুখ। যাত্রাবাড়ী থেকে মাধব বিগ্রহসহ অন্য বিগ্রহ গুলো নিয়ে রথের ওপর মূর্তিগুলো স্থাপন করা হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদীপ জ্বালিয়ে পুরোহিত উত্তম গাঙ্গুলি রথটানা ভক্তদের রশি প্রদান করেন। সন্ধ্যায়  ৬টায়  ভক্তরা পাটের রশি ধরে টেনে শ্রী শ্রী যশোমাধবকে তার কথিত শ্বশুরালয় যাত্রাবাড়ী মন্দির থেকে রথখোলায় নিয়ে যান। এ সময় হাজার হাজার নারী-পুরুষ চিনি-কলা ছিটিয়ে যশোমাধবের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রথযাত্রা শেষ হলেও রথমেলা সফল করতে রথ পরিচালনা কমিটির পাশাপাশি পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে মেলাঙ্গণে নজরদারি থাকবে বলে ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা জানান ,আরো ১৫দিন ব্যাপী রথমেলা চলবে । এ মেলায় রয়েছে মন মাতানো সার্কাস , পুতুল নাচ, নাগর দোলা, কুটির শিল্প, কাসাঁ-পিতল শিল্প, মৃৎশিল্প, ছোটদের খেলার সামগ্রী, শংকর ও মতিপাল ও রোসগোল্লার প্রসিদ্ধ মিষ্টি সামগ্রী সমাহার এবং বিভিন্ন সামগ্রী দোকান রয়েছে। ইতিমধ্যে মেলা জমে উঠেছে