সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশের আগুন: বিচারিক তদন্তের নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশের অগ্নিসংযোগের অভিযোগ বিষয়ে বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

গাইবান্ধার চিফ জুডিসিয়াল মেজিস্ট্রেটকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তদন্ত করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৮ জানুয়ারি দিন ধার্য্য করেছেন হাইকোর্ট ।

এছাড়া গত ২৬ নভেম্বর স্থানীয় সাঁওতাল টমাস হেমব্রমের থানায় করা আবেদনকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

পুলিশ সুপারের নীচে নয় এমন কোনো কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আসকের পক্ষে শুনানি করেন আবু ওবায়েদুর রহমান। সাঁওতালদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

আদালতের আদেশের পর আইনজীবী আবু ওবায়েদ বলেন, গত কয়েকদিন ধরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায় পুলিশই সাঁওতাল পল্লীতে আগুন ধরিয়েছে। তাই এই ঘটনায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছিলাম। আদালত বিচার বিভাগীয় তদন্তের আবেদনটি নথিভুক্ত করেছেন। একইসঙ্গে আগুনের ঘটনায় পুলিশ প্রকৃতপক্ষেই জড়িত কিনা তা তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেছেন।

তবে, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, আদালত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে সুনির্দিষ্টভাবে আগুনের ঘটনাটি তদন্ত করতে বলেছেন। তবে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেননি। এ ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে। আমরা মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দিয়েছি। যেখানে বলা হয়েছে সাঁওতাল ও পুলিশ উভয় পক্ষই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। আদালত মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনটিকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীর চিনিকল কর্তৃপক্ষের জমি দখলে নিতে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় গোলাগুলিতে তিন সাঁওতাল নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ৩০ জন।