জেল থেকে ছাড়া পেলেন সঞ্জয় দত্ত

karagarনিউজ ডেস্ক: জেল থেকে মুক্তি পেলেন সঞ্জয় দত্ত। ৫ বছরের সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার ৮ মাস ১৬দিন আগেই স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে পুনের ইয়েরওয়াড়া কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটক থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় সঞ্জয় দত্তকে।

নির্ধারিত মেয়াদের খানিক আগেই ‘ভালো আচরণের’ প্রাপ্তিস্বরূপ ছাড়া পেয়েছেন তিনি।

সঞ্জয়ের বের হয়ে আসার সময়টুকুও ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে, কারণ এটি সঞ্জয়ের ওপরে নির্মিতব্য বায়োপিকে ব্যবহারের চিন্তা করেছেন তার বন্ধু ও প্রখ্যাত পরিচালক রাজকুমার হিরানি। রাজকুমার নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে তিনিই সঞ্জয়কে সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন বিমানবন্দরের দিকে।

২০১৩ সালের মে মাস থেকে ২০১৪ সালের মে মাস পর্যন্ত ১১৮ দিন প্যারোলে মুক্ত ছিলেন তিনি। তবে বাকি সময়টা গরাদের অন্দরেই কাটিয়েছেন সঞ্জয়। তার মুক্তিতে খুশির হাওয়া বইছে বলিউডে।

১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ পরপর ১৩টি বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে মুম্বই। এরপরই বেআইনিভাবে নাইন এমএম পিস্তল ও একে-ফিফটি সিঙ রাইফেল রাখার অপরাধে টাডা আইনে গ্রেফতার হন বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। ২০০৬ সালে সঞ্জয় দত্তকে ৬ বছরের কারাদন্ডের নির্দেশ দেন টাডা আদালত। ২০০৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পান।

২০১৩ সালে সঞ্জয় দত্তর কারাদন্ডের মেয়াদ ৬ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করে সুপ্রিম কোর্ট। ওই বছরেরই ১০ মে সাজা পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে সঞ্জয় দত্তকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালতে। ২০১৩ সালের ১৬ মে টাডা কোর্টে আত্মসমর্পণ করেন সঞ্জয় দত্ত। শেষ পর্যন্ত সংশোধনাগারে ভালো আচরণের জন্য সঞ্জয়কে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় মহারাষ্ট্র সরকার।

তবে সঞ্জয় দত্তর মুক্তি নিয়েও বিক্ষোভ এবং বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশের নানা মহলে। তার বার বার প্যারোলে মুক্তি পাওয়া নিয়ে এর আগেই সরব হয়েছিলেন দেশের একাধিক বুদ্ধিজীবী মানুষ। কারণ ২০১৩ সালের মে থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ১১৮ দিন তিনি প্যারোলে জেলের বাইরেই কাটিয়েছেন।

সঞ্জয়ের ছাড়া পাওয়ার প্রতিবাদে জেলের বাইরে বিক্ষোভ দেখান কিছু লোক। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সঞ্জয়ের মুক্তির বিরুদ্ধে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ।

Share This: