মুস্তাফিজরা আইপিএল চ্যাম্পিয়ন

vivo-iplনিউজ ডেস্ক: রোমাঞ্চ পেরিয়ে মুস্তাফিজুর রহমানরা হলেন এবারের আইপিএলের চ্যাম্পিয়ন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ৮ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। শেষের ৪ ওভারে মুস্তাফিজ ও ভুবনেশ্বর কুমার মিলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন। তার আগে বেন কাটিং শেষে ঝড় তুলে ১৫ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করেছিলেন হায়দ্রাবাদের জন্য। ব্যবধান হয়ে গেলো ওই রানই। ৭ উইকেটে ২০৮ রান করেছিল হায়দ্রাবাদ। বড় রান তাড়া করে জয়ের আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২০০ রানে থামতে হয়েছে আরসিবিকে।

তৃতীয়বারের মতো আইপিএলের ফাইনালে হারলো আরসিবি। প্রথমবার ফাইনালে উঠেই শিরোপা ঘরে তুললো হায়দ্রাবাদ। মুস্তাফিজ ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। ১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে আইপিএল শেষ করলেন বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন বাঁ হাতি ফাস্ট বোলার। প্রথমবার বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি আসর খেলতে গিয়েই চ্যাম্পিয়ন ফিজ। তবে বেন কাটিং পরে ২ উইকেট নিয়ে অল রাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যান অব দ্য ম্যাচ।

বেঙ্গালুরুর মাঠে খেলা। শিরোপা হায়দ্রাবাদের। রবিবারের ফাইনালের পর মনে হলো শশ্মানে শিরোপা উৎসব করছে হায়দ্রাবাদ! অথচ আরসিবির ইনিংসের দুই তৃতীয়াংশ সময়ের বেশি এই মাঠে কান পাতা ছিল দায়। কারণ, জয়ের পথেই ছিল আরসিবি। ক্রিস গেইলের ৭৬ ও অধিনায়ক কোহলির ৫৪ রানে জয় দেখছিল তারা। কিন্তু এবারের আইপিএলের সেরা বোলিং আক্রমণ হায়দ্রাবাদের। ২৪ রানের মধ্যে বড় চার উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচটা নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেয় হায়দ্রাবাদ।

তবে শেষ ৪ ওভারই আবার তাদের জয় নিশ্চিত করলো। ১৬ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১৬২ রান আরসিবির। জিততে ২৪ বলে দরকার ৪৭ রান। অসম্ভব না। কিন্তু শেষ ৪ ওভার আইপিএলে ডেথ ওভারে সেরা জুটি মুস্তাফিজ ও ভুবনেশ্বরের। ১৭তম ওভারে মুস্তাফিজ তুলে নিলেন শেন ওয়াটসনকে। দিলেন ১০ রান। পরের ওভারে ভুবনেশ্বর দিলেন ৭। শেষ ২ ওভারে ৩০ করতে হবে আরসিবিকে। মুস্তাফিজের ১৯তম ওভারের প্রথম বলে রান আউট স্টুয়ার্ট বিনি। পরের বলে ক্রিস জর্ডানের ক্যাচ ছাড়লেন বারিন্দর স্রান। এই ওভারে ১২ দিতে হলো মুস্তাফিজকে। কিন্তু ভুবনেশ্বর শেষ ওভারে জেতানোর মঞ্চ করে দিয়ে গেলেন। শেষ ওভারে একটি রান আউট। ৯ রান। চ্যাম্পিয়ন মুস্তাফিজদের হায়দ্রাবাদ!

এর আগে ফাইনালে জেগে উঠলেন ক্রিস গেইল। দানবীয় ব্যাটসম্যানের আগ্রাসী রূপ দেখা গেলো এবার। সপ্তম ওভারের সময় তার ফিফটি। ২৫ বলে। ছক্কা মেরে। কোহলির রান তখন ১২ বলে খেলে ১০! এরপর কোহলি ফিজকে মেরেছেন একটি করে চার ও ছক্কা। ষষ্ঠ ওভারে ৪ রান দেওয়া ফিজকে দশম ওভারে দিতে হয়েছে ১২। ১০ ওভারে ১১২। উইকেট না হারিয়ে। ম্যাচ আরসিবিরই তো! এই সময় বেন কাটিংকে মারতে গিয়ে গেইল ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন। ৩৮ বলে ৮ ছক্কা ও ৪ বাউন্ডারিতে জয়ের ভিত্তি গড়েছেন তিনি।

এরপর কোহলি দ্রুত ছুটেছেন। ছক্কায় হলো ফিফটি। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ালো হায়দ্রাবাদ। স্রান বোল্ড করে দিলেন ৫৪ রান করা কোহলিকে। ম্যাচটা ওখানেই হারলো আরসিবি! পরের ওভারে বিপজ্জনক এবি ডি ভিলিয়ার্স (৫) বিপুল শর্মার শিকার হলে ওয়াটসনের ওপর গিয়ে পড়ে সব দায়িত্ব। কিন্তু তাকে তুলে নিয়ে মুস্তাফিজ আরসিবির জয়ে ফেরার পথটাই বন্ধ করে দিলেন কোহলিদের মুখের ওপর।

এর আগে কাটিং ঝড় দেখেছে বেঙ্গালুরু। ১৫ বলে ৪টি ছক্কা ও ৩টি বাউন্ডারিতে তিনি অপরাজিত ৩৯ রানে। তার ৩ ছক্কা শেষ ওভারে। ওয়াটসনকে দিতে হয়েছে ২৪। শেষ ৩ ওভারে উঠেছে ৫২। ব্যবধান তো তৈরি হবেই। অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ৩৮ বলে খেলেছেন ৬৯ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস। মাঝে যুবরাজ সিং ২৩ বলে ৩৮ রান দিয়ে গেছেন। শিখর ধাওয়ান করেছেন ২৮ রান। তাতেই হায়দ্রাবাদ ছোটোখাটো পাহাড়ে ওঠে। সেখান থেকে তাদের নামিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি আরসিবি। মুস্তাফিজরা মেতেছেন বিজয় উৎসবে।

Share This: