‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ করা হবে’

bnp-logo_43701স্টাফ রিপোর্টার: ক্ষমতায় গেলে বিএনপি বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রবিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপি আয়োয়োজিত জাতিসংঘ ঘোষিত ‘আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।

মওদুদ আহমেদ বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি গুম হবে না, কাউকে বিনা বিচারে আটক রাখা হবে না, বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হতে হবে না। এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যদি আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। যদি করতে না পারি জনগণ ধিক্কার দেবে।’

দেশের একদিকে ক্রসফায়ার, অন্যদিকে জঙ্গি ও উগ্রবাদের উত্থান হচ্ছে মন্তব্য করে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যা, জঙ্গি ও উগ্রবাদের অবসান ঘটাতে হলে দেশে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরেপক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

জবাবদিহিতামূলক এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার না থাকার কারনে দেশের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন মওদুদ।

তিনি বলেন, দেশের কোনো জাবাবদিহিতামূলক ও জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার নেই। যে কারণে নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সত্যিকার অর্থে দেশের কোনো নির্বাচিত সরকার নেই। সেই কারণে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের উত্থান হচ্ছে। জঙ্গি দমনে সরকার জিরো টলারেন্সের নীতির কথা বললে কার্যত কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেনা বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নীতি নির্ধারক।

ব্লগার, মসজিদের মোয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিত, বুদ্ধভিক্ষু মারা গেলেন, তাহলে কিসের জিরো টলারেন্সের কথা বলেন? সরকারের নীতি যদি জিরো টলারেন্স হয়, তাহলে এদের মৃত্যু কেন হচ্ছে? সরকার একটি হত্যাকাণ্ডেরও বিচার শুরু করতে পারেনি। এটা দেশের মানুষের রএকটি বড় প্রশ্ন। সেজন্য এই যে জিরো টলারেন্সের অবস্থান, এটি সত্য নয়, বলেন মওদুদ।

বিএনপিকে একটি উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো উগ্র ও জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়না, ঘৃণা করে। কিন্তু মিথ্যাচার করে, অপপ্রচার করে বিএনপিকে মধ্যপন্থী দল হিসেবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কিন্তু এটি সত্য নয়। উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ বিএনপি বিশ্বাস করে না।

ছিনতাই-চাঁদাবাজি রোধে প্রয়োজনে গুলি-পুলিশের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একজন পুলিশ কি এটা বলতে পারেন? কেউ কি এটা বলতে পারে? দেশ কে চালাচ্ছে। দেশের কি কোনো সরকার আছে। জবাবদিহিতা নেই বলেই এই ধরনের কতা বলা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবসের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রত্যেকটি গ্রামে গ্রামে এই দিনটি পালিত ওহয়া উচিত। কারন আজ একেবারে তুনমুল পর্যায়েও নির্যাতন চলছে। বিষয়টি নিত্যনৈমিতত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ রয়েছে দাবি করে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘দেশের মানুষের ভেতর যে ক্ষোভ রয়েছে এর প্রকাশ ঘটানো যাচ্ছে না। এটি করতে হলে সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে অব্যাহত রাখতে হবে।

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে এবং দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আইনজীবী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

এছাড়া গুম হওয়ার পর ফিরে আসা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার।গুম হওয়া নিজাম উদ্দিন মুন্নার বাবা সামসুউদ্দিন, সোহেলের স্ত্রী সাম্মী আখতার, সাজেদুল ইসলাম সুমনের বড় বোন আঁখি, পারভেজ হোসেনের মেয়ে হৃদি বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা প্রমুখ।

Share This: