প্রত্যাশিত ‘ডট বাংলা’ ডোমেইন পেল বাংলাদেশ

btrcনিউজ ডেস্ক: বহুল প্রত্যাশিত ‘ডট বাংলা’ ডোমেইনের চূড়ান্ত বরাদ্দ পেয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার বিকালে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত সরকারের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ এবং সিয়েরা লিওনও ‘ডট বাংলা’র জন্য আবেদন করেছিল।

তারানা হালিম তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আরেকটি কাজ সম্পন্ন হলো। অনেক চেষ্টার পর ইন্টারনেট কর্পোরেশন অব এ্যাসাইন্ড নেমস এ্যান্ড নাম্বার’ (আইসিএএনএন)- এর বোর্ড সভায় ‘ডট বাংলা’ ডোমেইন বাংলাদেশের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত ডোমেইনটি পাওয়ার জন্য সিয়েরা লিওনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। বাংলাদেশের পক্ষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ইন্টারনেটে ডোমেইন নাম, ঠিকানা বরাদ্দকারী সংস্থা হলো ইন্টারনেট কর্পোরেশন ফর অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নম্বরস (আইসিএএনএন) বা আইকান কাছে তুলে ধরেন, বাংলাদেশ একমাত্র দেশ; যারা মাতৃভাষা বাংলার জন্য সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে, শহীদ হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই এ ভাষার উপর বাংলাদেশের জনগণের অধিকার সবার আগে।

এর আগে গত মার্চে ‘ডট বাংলা’ ডোমেইন ব্যবহারের উপযোগী করতে কার্যক্রম তরান্বিত করার জন্য আইসিএএনএনকে তাগিদ দিয়ে চিঠিও দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশের জন্য আইসিএএনএনের স্বীকৃত দুটি ডোমেইনের একটি হলো ডট বাংলা ও আরেকটি হলো ডট বিডি (. বিডি)। কোনো একটি রাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়ের স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করে এই ডোমেইন। ‘ডট বাংলা’ বাংলাদেশের দ্বিতীয় কান্ট্রি কোড টপ-লেভেল ডোমেইন (সিসি-টিএলডি)। এই ডোমেইন বাংলা ভাষায় ওয়েব ঠিকানার জন্য বোঝানো হয়। ইন্টারনেটে একটি রাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়ের স্বীকৃতিও হলো এই ডোমেইন। আর প্রথমটি হলো ডট বিডি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ জানায়, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ডট বাংলা ডোমেইন এর টেকনিক্যাল কনটাক্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে।

২০১১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ‘ডট বাংলা’ ডোমেইন পেতে আবেদন করা হয়। বাংলা ভাষার জন্য স্ট্রিং ইভ্যালুয়েশন (বাংলা অক্ষরগুলো চেনার জন্য নির্দিষ্ট কোড আইডিএন সিসিটিএলডি) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইন্টারনেট অ্যাসাইন্ড নম্বরস অথরিটি (আইএএনএ) বাংলার জন্য কোডটি অনুমোদনও করে। পরে ২০১২ সালে ‘ডট বাংলা’ ব্যবহারের অনুমতি পেলেও পদ্ধতিগত এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে না পারায় ‘ডট বাংলা’ পুরোপুরি বাংলাদেশের হয়নি। এই বরাদ্দ পাওয়ার পর এখন সব আশঙ্কা দূর হলো।

Share This: