সব দলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে ইসি গঠনের প্রস্তাব খালেদা জিয়ার

bnp-logo_43701নিউজ ডেস্ক: সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে সব দলের ঐক্যের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের খুঁজে বের করতে পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠনেরও কথা বলেছেন তিনি।

শুক্রবার বিকালে গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সৎ, সাহসী, অবাধ ও সুষ্ঠু স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের বিকল্প নেই। এ ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনের যোগ্যতার কথাও বর্ণনা করেন তিনি।

একজন নারীসহ চারজন কমিশনার নিয়োগের প্রস্তাব করেন খালেদা জিয়া। এ ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য নির্বাচন কমিশনারদের হতে হবে সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সৎ, কর্ম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ও দল নিরপেক্ষ। বাছাই কমিটির কাছে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল অথবা স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো দুজন করে নাম প্রস্তাব করতে পারবে। সেখান থেকে বাছাই কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে চূড়ান্ত মনোনয়নের পর কেউ যদি দায়িত্ব পালন করতে অসম্মতি প্রকাশ করেন, তবে একই প্রক্রিয়ায় আবারো বাছাই করতে হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার দাবি জানান খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, আঠারো বছর বয়সী সব নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রবাসীদেরও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন প্রশাসন যাতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। ভোট কেন্দ্রে ছবিসহ ভোটার তালিকা সরবরাহ করতে হবে। যাতে কেউ জাল ভোট দিতে না পারে। যাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে তারা যেন কোনো বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে প্রার্থীর নিযুক্ত এজেন্টকে রেখে অবাধে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভোট গণনা শুরু করতে হবে। কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই ভোট গ্রহণ চলবে। নির্বাচনে দল নিরপেক্ষ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষক রাখতে হবে।

নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ছাড়া এসব বামবদবায়ন সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন খালেদা জিয়া।এ ছাড়া নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকার গঠন করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত প্রস্তাব তুলে ধরা হবে।

সংবাদ স‌ম্মেল‌নে বিএন‌পি নেতা‌দের ম‌ধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হো‌সেন, ব্যা‌রিস্টার মওদুদ আহ‌মেদ, ত‌রিকুল ইসলাম, ব্যা‌রিস্টার জ‌মির উ‌দ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, ব্যা‌রিস্টার র‌ফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গ‌য়েশ্বর চন্দ্র রায়, আ‌মির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এনাম আহ‌মেদ চৌধুরী, আলতাফ হো‌সেন ‌চৌধুরী, হা‌ফিজ উ‌দ্দিন আহ‌মেদ, অ্যাড‌ভো‌কেট খন্দকার মাহবুব হো‌সেন, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাড‌ভো‌কেট জয়নাল আ‌বেদিন, আবদুল মান্নান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, অ্যাড‌ভো‌কেট আহমদ আজম খান, ডা. এ জেড এম জা‌হিদ হো‌সেন, আমান উল্লাহ আমান, সৈয়দ মোয়া‌জ্জেম হো‌সেন আলাল, খায়রুল ক‌বির খোকন প্রমুখ।

২০ দলীয় জোটের নেতা‌দের ম‌ধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ক‌র্নেল (অব.) অলি আহ‌মেদ, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরা‌হিম, আন্দা‌লিব রহমান পার্থ, শ‌ফিউল আলম প্রধ‌ান, ফ‌রিদুজ্জামান ফরহাদ, জে‌বেল রহমান গা‌নি গোলাম ‌মোর্ত্তজা, আজহারুল ইসলাম, মোস্তা‌ফিজুর রহমান ইরান, সাঈদ আহ‌মেদ, সাইফু‌দ্দিন আহ‌মেদ ম‌নি, মো. আবদুর র‌কিব।

‌বি‌শিষ্ট ব্য‌ক্তি‌দের ম‌ধ্যে প্রবীণ আইজী‌বী ব্যা‌রিস্টার র‌ফিক উল হক, প্রাক্তন গভর্নর সা‌লেহ উদ্দিন আহ‌মেদ, সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Share This: