মুক্তি পেলেন মাহমুদুর রহমান

karagarনিউজ ডেস্ক: ১৩১৯ দিন কারাভোগের পর দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার দুপুর একটার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-২ থেকে তিনি মুক্তি পান।

এদিকে নির্যাতিত এই কলম সৈনিককে স্বাগত জানাতে গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শত শত মানুষ কারাফটকে উপস্থিত হয়েছেন।

কাশিমপুর কারাগার-২ এর জেলার নাশির আহমেদ জানান, মাহমুদুর রহমানের জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর তা যাচাই-বাছাই শেষে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এ সময় কারাফটকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএফইউজে’র একাংশের মহাসচিব রুহুল আমিন গাজী, বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, সহ প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, সহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আফজাল হোসেন সবুজ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ডা. মাজহারুল আলম, গাজীপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি হালিমুজ্জামান ননি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হুদা নুরুসহ বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ মামলায়ও সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দৈনিক আমার দেশ’র সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের জামিন বহাল থাকে।

২০১৩ সালে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ ১৩১৯ দিন কারাভোগ করেন মাহমুদুর রহমান। এর আগে ২০১০ দী্ঘে ১০ মাস কারাভোগ করেন আলোচিত এই কলম সৈনিক। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সম্পাদকের এতো বেশিদিনের কারাভোগের ঘটনা এটিই প্রথম।

এর আগে ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের চেষ্টা ও হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলায় মাহমুদুর রহমানের জামিন বহাল রাখে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

৩১ অক্টোবর সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন।

এর আগে মাহমুদুর রহমানকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার জামিন ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেন।

আদালতে রাষ্ট্র পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা এবং মাহমুদুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ মাহমুদুর রহমানকে জামিন দেন।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

চলতি বছর ১৮ এপ্রিল ওই মামলায় ঢাকার সিএমএম আদালতে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো এবং ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত পরে ২৫ এপ্রিল এ আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেন। ওই দিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

অপরদিকে মাহমুদুর রহমানের আইনজীবীরা তার জামিনের আবেদন করেন। তবে সেই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ। পরে নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন মাহমুদুর রহমান। হাইকোর্ট তার জামিন প্রশ্নে এর আগে রুল জারি করেছিল। সেই রুল যথাযথ ঘোষণা করে ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করেন।

মাহমুদুর রহমানের নামে ওই মামলাসহ অন্তত ৭০টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যসব মামলায় এর আগেই জামিন নিয়েছেন তিনি।

Share This: