বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিনের বয়ান চলছে

নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় দিনে শনিবার দিনভর কয়েক লাখ মুসল্লির উদ্দেশে চলে পবিত্র কোরআন-হাদিসের আলোকে বয়ান।

টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান এরই মধ্যে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। রবিবার মোনাজাতে শরিক হতে তারপরও আসছেন মুসল্লিরা। মোনাজাতের আগ পর্যন্ত এ ঢল অব্যাহত থাকবে। মোনাজাতে শরিক হতে বিপুলসংখ্যক নারী টঙ্গীর আশপাশে এসে অবস্থান নিয়েছেন। অনেকে আত্মীয় স্বজনের বাসা-বাড়িতে উঠেছেন।

চলছে বয়ান
দুইদিন ধরে সার্বক্ষণিক ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত রয়েছেন মুসল্লিরা। প্রতিদিন ফজর থেকে এশা পর্যন্ত ঈমান, আমল, আখলাক ও দ্বীনের পথে মেহনতের উপর আমবয়ান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাবলিগের ৬ উসুলের (মৌলিক বিষয়ে) উপর বাদ ফজর ভারতের হযরত মাওলানা জমশেদ আলীর বয়ানের মধ্য দিয়ে শনিবার দ্বিতীয় দিনের বয়ান শুরু হয়। বাদ জোহর হযরত মাওলানা মোহাম্মদ মোরসালিন (ভারত), বাদ আসর হযরত মাওলানা মো. ইউসুফ আলী (ভারত) এবং বাদ মাগরিব বয়ান করেন ভারতের হযরত মোহাম্মদ সা’দ বয়ান করবেন।

এক মুসল্লির মৃত্যু
ইজতেমা ময়দানে শুক্রবার রাতে এক মুসল্লি ইন্তেকাল করেছেন। তার নাম জয়নাল আবেদীন (৭০)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর থানার ডোমারকান্দার উত্তর সালুয়া গ্রামের মৃত সৈয়দ আলী মুন্সির ছেলে। জানা গেছে, শনিবার রাতে তিনি ইজতেমা ময়দানে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইজতেমায় বিদেশী মুসল্লি
ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনই জর্ডান, লিবিয়া, আফ্রিকা, লেবানন, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ইরাক, সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের ৯০ দেশ থেকে ৫ সহস্রাধিকক সুমল্লি আসেন। আগের পর্বে অংশ নেয়া অনেকেই ছিলেন আগে থেকেই। ভাষাভাষী ও মহাদেশ অনুসারে ময়দানে তিনি তাঁবুতে রয়েছেন মেহমানরা।

নিরাপত্তা ও যান চলাচল
আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ জানান, শনিবার মধ্যরাত থেকে মোনাজাত শেষে রবিবার বিকাল পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত, টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের মিরেরবাজার থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত, কামারপাড়া থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত এবং বিমানবন্দর থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের এলাকা কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। প্যান্ডেলের ভেতর ও বাইরে মুসল্লিবেশে রয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রায় এক হাজার সদস্য।

বিশেষ ট্রেন
টঙ্গীর রেলওয়ে স্টেশনের কর্মকর্তা জানান, আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে রেলওয়ে আখাউড়া, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। মোনাজাতের আগে ও পরে সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। ইজতেমায় আগত যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে অতিরিক্ত টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালে প্রথম কাকরাইল মসজিদে ইজতেমা আয়োজন করা হয়। ১৯৬৬ সালে গাজীপুরে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বর্তমান ময়দানে স্থানান্তর করা হয় বিশ্ব ইজতেমা। ২০১১ সাল থেকে দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হয়। স্থান সংকুলান না হওয়া, অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন অসুবিধা ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে এ আয়োজন করা হয়। আর চলতি বছর থেকে দুই পর্বে ৩২ জেলার মুসল্লিদের অংশ নেয়ার নির্দেশনা দেয় আয়োজক কমিটি। বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিরা আগামী বছর দুই পর্বে অংশ নেবেন।

Share This: