চট্টগ্রামে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে ৪ জন নিহত

নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার প্রেমতলা এলাকার ‘ছায়ানীড়’ বাড়িতে অভিযানে ৪ জঙ্গি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে এ চার জঙ্গি নিহত হন।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ঢাকার অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোর ৬টায় অভিযান শুরুর পরপরই জঙ্গিরা জবাব দেয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায় ১০ মিনিট গুলি বিনিময় হয়। এতে সোয়াত ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের দুই সদস্যও আহত হন।

আবদুল মান্নান আরো জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আইনশৃংখলা বাহিনী বাড়িটিতে ঢোকার চেষ্টা করলে জঙ্গিরা বোমার বিস্ফোরণ ও গুলি চালাতে শুরু করে। আইনশৃংখলা বাহিনী আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই চার জঙ্গি নিহত হন।

লাশ এখনো ওই বাড়িতেই রয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এদিকে ওই বাড়িতে জঙ্গিদের জিম্মিদশা থেকে দুটি পরিবারের ছয় সদস্যকে উদ্ধার করেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে ঢাকা থেকে যাওয়া পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও সোয়াত টিম বাড়িটিতে অভিযান শুরু করে। বিশেষ এ দলের সঙ্গে অভিযানে চট্টগ্রামের সোয়াট, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরাও রয়েছে।
বুধবার দিনগত রাত পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সোয়াট টিম। ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও সঙ্গে সঙ্গে অভিযান শুরু না করে অ্যাসেসমেন্ট করেন সোয়াট কর্মকর্তারা। পরে দিনের আলো ফোঁটার পর শুরু হয় ‘অ্যাসল্ট-১৬’ নামের এই অভিযান।

বুধবার রাতে জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা সাংবাদিকদের জানান, ‘ছায়ানীড়’ বাড়িতে ৫-৬ জন জঙ্গি এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও গোলা-বারুদ মজুদ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।

বুধবার দুপুরে সীতাকুণ্ড পৌরসভার লামারবাজার পশ্চিম আমিরাবাদে সাধন চন্দ্র ধরের মালিকানাধীন সাধন কুঠিরের নিচ তলায় অভিযান চালায় পুলিশ।

এ সময় সেখান থেকে ২ মাসের শিশুসহ এক জঙ্গি দম্পতিকে আটক করে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার প্রেমতলায় ‘ছায়ানীড়’ নামে ওই জঙ্গি আস্তানায় পুলিশ অভিযান চালায়।

Share This: