উপকূলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত

নিউজ ডেস্ক: ধেয়ে আসছে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এছাড়াও মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর সতর্ক সংকেতের বদলে ৮ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজার থেকে ঘূর্ণিঝড়টি ৩০৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং এগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার বদলে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া বিভাগের সর্বশেষ বার্তা অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬২ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি প্রতি মুহূর্তে প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছে। নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, উপকূলীয় এলাকায় বর্তমানে গুমোট অবস্থা বিরাজ করছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক জানিয়েছেন, বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় মোরা কক্সবাজার উপকূল থেকে ৩০৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। তিনি জানান, ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে ৪ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এরইমধ্যে কক্সবাজার এলাকার বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে, জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাগর সৈকত থেকে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সৈকতে স্বেচ্ছাসেবক ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সৈকত এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে উপকূলের খুব কাছে বসবাসকারী অনেকেই এখনও আশ্রয় কেন্দ্র যাননি এমন তথ্যও পাওয়া গেছে। তাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

Share This: