কক্সবাজার বিমানবন্দর বন্ধ, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিমানবন্দরে সতর্কতা

নিউজ ডেস্ক: কক্সবাজার বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ করেছে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি। চট্টগ্রামের শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বরিশাল বিমানবন্দরে আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। সোমবার বিকেলে থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি) জিয়াউল কবির।

৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি হওয়ায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে জানিয়ে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পরিচালক আরও বলেন, ‘আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরির্বতন না হওয়া পর্যন্ত উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে। অন্য বিমানবন্দরগুলোতে আবহাওয়া পরিস্থিতির বিবেচনা করে উড়োজাহাজ চলাচল করবে।’

এদিকে শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার রিয়াজুল কবির বলেন, সোমবার রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত বিমানবন্দরের ফ্লাইট অপারেশন চলবে। তবে আগামীকাল ভোর পৌনে ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এয়ারপোর্ট বন্ধ থাকবে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরগুলোয় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোয় ৭ বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ০৫ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এদিকে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আরও সামানের দিকে উত্তরদিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার (৩০ মে) সকালের দিকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল এলাকায় আঘাত হানেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। ঘূর্ণিঝড় ’মোরা’ এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সোমবার (২৯ মে) বিকাল থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ও সমুদ্রবন্দরের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিতফরের আবহাওয়াবিদ মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘‘ঘূর্ণিঝড় ’মোরা’ পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আজ দুপুর ১২ টায় (২৯ মে ) চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণণপশ্চিমে ও মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব দিকে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে ও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ৩০ মে সকাল নাগাদ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ’মোরা’ অতিক্রমকালে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

Share This: