মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা এখন ধামরাই সরকারি হাসপাতালে

মোহাম্মদ মাসুদ সরদার: মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল না হলেও ধামরাই উপজেলা ৫০শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সাহসিকতা ও আন্তরিকতা দিয়ে ফুসফুসের যক্ষা থেকে রক্ষা করার জন্য চিকিৎসা দিয়েছেন। ওসমান গণি নামের (বুকের ভেতর পানি জমা) এক যক্ষা রুগীর ফুসফুস থেকে প্রায় এক লিটার পানি বের করতে সক্ষম হয়েছেন চিকিৎসকরা।

জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের শাখাওয়াত হোসেনের ছেলে এক সন্তানের জনক ওসমান গণি । তার পেশা একজন ষ্ট্রিল ফিটার। এক বছর পূর্বে তার ঠান্ডাকাশি ছিল। ৫-৭দিন চিকিৎসা নেয়ার পর সে কিছুটা ভাল ছিল। এর মধ্যে ৬মাস পূর্ব থেকে আবার কাশ ও জ্বর নিয়ে মাঝে মাঝে চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসাও নিয়েছে। গত একমাস আগে ধামরাই সরকারী হাসপাতালে ৩দিন ভর্তিও ছিল চিকিৎসা নেয়ার জন্য । পারিবারিকভাবে অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নামিদামী হাসপাতালে যেতেও পারেনি।

পরিপূর্ণ সুস্থ্য না হওয়ায় চিকিৎসা নেয়ার জন্য গত ১৭ নভেম্বর আবার তীব্র জ্বর নিয়ে ভর্তি হয় উপজেলা সদর সরকারি হাসপাতালে। এখানে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (ইন্টারনিষ্ট) ডাক্তার জাকারিয়া-আল-আজিজ।

রোগ সনাক্ত করার জন্য তিনি বুকের এক্সরে ও রক্ত পরীক্ষা দেন। পরীক্ষা করার পর বুকের ভেতর ফুসফুসের যক্ষা(pulmonary tuberculosis)ধরা পড়ে অর্থ্যাৎ বুকের ভেতর পানি জমেছে। এ চিকিৎসা মেডিকেল কলেজ ছাড়া সম্ভব নয়। রুগীর অর্থনৈতিক অবস্থার ভাল নয় বলে চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ডাক্তার জাকারিয়া-আল-আজিজ। রুগীর অবস্থান বুঝে নিজ দক্ষতায় হাসপাতালেই ওই রুগীর বুক থেকে স্যানাইনের সূচ দিয়ে প্রায় এক কেজি পানি বের করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ ফজলুর রহমান, ধামরাই নিউজ২৪ ডট কমের সম্পাদক আনিস উর রহমান স্বপন। বর্তমানে ওই রুগী অনেকটা সুস্থ্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ডাক্তার জাকারিয়া-আল-আজিজ বলেন এই হাসপাতালে আধুনিক পরীক্ষাগার না থাকায় রোগ সনাক্ত করা অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে চিকিৎসা দিয়ে গিয়েও আমাদের হিমসিম খেতে হয়।

Share This: