ইজতেমায় হেলিকপ্টার ও ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি : বেনজীর আহমেদ


 লাইভ প্রেস২৪, ঢাকা  : র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, এবারের বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তার ঝুঁকি নেই ।  ত্রি-মাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। হেলিকপ্টার এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেও সতর্ক থাকবে এলিট ফোর্স বাহিনী। ইজতেমা এলাকায় যে কোনো ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেন, ইজতেমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পোশাকধারী র‌্যাব সদস্যের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক সাদা পোশাকের সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে। দু’পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেও সতর্ক থাকবে র‌্যাব সদস্যরা।

বেনজীর আহমেদ বলেন, বিশ্ব ইজতেমার ময়দানকে দু’টি সেক্টরে ভাগ করে কার-মোটারসাইকেল-বোট পেট্রোলিংয়ের পাশাপাশি আকাশ থেকে হেলিকপ্টার এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। যে কোনো ধরনের আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।

বিদেশী মুসল্লিদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বেনজীর আহমেদ বলেন, ইজতেমায় ২৭টি দেশের বিদেশি নাগরিকসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লির জমায়েত হবে। আমরা ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারির কাজ শুরু করেছি। দুই ধাপে ইজতেমার ময়দানে তিনদিন করে আমাদের ডেপ্লমেন্ট থাকবে। এছাড়া গাড়ি-বাইক পেট্রোলিংয়ের পাশাপাশি তুরাগ নদীতে স্পিডবোটের মাধ্যমে বোট পেট্রোলিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
ময়দানের অভ্যন্তরে পোশাকধারী র‌্যাব সদস্যের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক সাদা পোশাকের সদস্য মোতায়েন থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সুইপিং টিম ও ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, পুরো ইজতেমা ময়দান সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং ও রেকর্ডিং করা হবে। ইজতেমার বাইরের সড়কে আটি পোস্ট স্থাপন করে ইজতেমায় আগত মুসল্লি ও যানবাহন তল্লাশি করা হবে। এছাড়া, দু’টি হেলিকপ্টার ও প্রথমবারের মতো ড্রোনের মাধ্যমে আকাশ থেকে র‌্যাবের নজরদারি থাকবে।

ইজতেমার দু’পক্ষের সঙ্গেই আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। সবকিছু স্বাভাবিক রেখে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে আমরা সতর্ক রয়েছি। যে কোনো আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। অন্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। কোথাও ঝুঁকি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং বিষয়ে ডিজি র‌্যাব বলেন, বিশ্ব ইজতেমা ঘিরে কোনো গুজব যাতে না ছড়ানো হয়, সেজন্য সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং করা হচ্ছে। ফেক এবং গুজব নিউজের কারণে অনেক সময় বড় বিপদ চলে আসতে পারে। এজন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো মনিটরিং করা হবে। যাচাই না করে কোনো নিউজ শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানান র‌্যাবের প্রধান।

এর আগে র‌্যাব-১ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্ট্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে সাংবাদিকদেরকে বলেন, ১০-১২ এবং ১৭-১৯ তারিখ পর্যন্ত দুই পর্বে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য প্রাক গোয়েন্দা নজরদারি, ইজতেমার সময় ফুল ডেপ্লয়মেন্ট এবং শেষেও মুসল্লিরা স্থান ত্যাগ পর্যন্ত আমাদের ‘কভার্ড অ্যান্ড ওভার্ড’ ফোর্স মোতায়েন থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ১০টি অবজারভেশন পোস্ট থেকে পুরো এলাকায় নজরদারি থাকবে। কার-বাইক পেট্রোলিংয়ের পাশাপাশি তুরাগ নদীতে বোট পেট্রোলিং থাকবে। ইজতেমার মাঠে ২০টি প্রবেশপথে আর্চওয়ের মাধ্যমে প্রত্যেককে তল্লাশি করা হবে।
মুসল্লিদের সুবিধার্থে মহাখালী থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত দু’টি বাস সার্ভিস থাকবে র‌্যাবের। ইজতেমা মাঠে দু’জন চিকিৎসকসহ চিকিৎসাকেন্দ্র থাকবে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

এসময় র‌্যাবের আইনও গনমাধ্যম শাখার মূখপাত্র লেফটেন্ট্যান্ট কর্ণেল সারোয়ার বিন কাশেম,সহকারী পরিচালক সিনিয়র এএসপি মো: মিজানুর রহমান ভুঁইয়া,র‌্যাব-১ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্ট্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল সহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

লাইভ প্রেস২৪/ জীবন/জেডআই

Share This: