দিনাজপুরে প্রতিবাদের মুখেও নষ্ট ইউরিয়া নিতে হচ্ছে ডিলারদের

লাইভ প্রেস২৪,দিনাজপুর: দিনাজপুরের বাফার গোডাউনে শুধু খোলা আকাশের নিচে রাখা সার ছাড়াও ২০১৭ সালের বন্যার পানিতে ভিজে জমাটে পরিনত হওয়া ইউরিয়া সার পুনরায় মাড়াই মেশিনে গুড়া করে বাধ্যতামূলকভাবে তুলে দেওয়া হচ্ছে ডিলারদের হাতে। গুদামে মজুদ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এবং পানিতে ভিজে জমাট বেধে পাথরের ন্যায় কঠিন বস্তুতে পরিনত হওয়া হাজার হাজার বস্তায় প্রায় ১৩ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার। এধরনের সার প্রয়োগে ফসল উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি গুনগত মানের কোন ক্ষতি হবেনা ওইসব সারের।

বোরো আমন ধান এবং গম ভূট্রাসহ দিনাজপুরে বিভিন্ন ফসল চাষাবাদে অন্যান্য সারের সাথে প্রতি বছর প্রায় সোয়া লাখ টন ইউরিয়ার পাশাপাশি আরো ৩ ধরনের (টি.এস.পি , ডি.এ.পি এবং এম.ও.পি) সারের চাহিদা ১লাখ ১০৫ টন। (মোট চাহিদা ২লাখ ১১ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন) ফসল ভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের সার প্রয়োগ করে থাকেন চাষিরা। সরকারি দর অনুযায়ী ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার ৭শত টাকা। ডিলারের হাতঘুরে খুচরা বাজারে (১৬টাকা কেজি হিসেবে) বিক্রির হয় ৮শত টাকায়। অন্যান্য সারের মধ্যে টি.এস.পি (২২ টাকা কেজি হিসেবে) ১১শত টাকা, ডি.এ.পি (১৬টাকা কেজি হিসেবে) ৮শত টাকা এবং পটাশ (১৫টাকা কেজি হিসেবে) ৭৫০টাকা।

এজন্য (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্র্রিজ কর্পোরেশন) বিসিআইসি’র অধিনে সদর, বিরামপুর এবং পার্বতীপুর উপজেলায় ২১ হাজার ধারন ক্ষমতার ৩টি বাফার গুদামে মজুদ রয়েছে ৩৭ হাজার মেট্রিক টনের বেশী ইউরিয়া সার। এর মধ্যে ৬ হাজার মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতার সদরের পুলহাট বাফার গুদামে বর্তমানে কাফকো, বিসিআইসি এবং চায়না কোম্পানীর উৎপাদিত প্রায় ১৩ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুদ পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় ডিলারদের অভিযোগ ওই মজুদের বেশীরভাগ মেয়াদ উত্তির্ন এবং ২০১৭ সালের বন্যার পানিতে ভিজে জমাট বেধে রয়েছে। সরকারের আর্থিক ক্ষতির কথা বলে ভাল সারের সাথে ৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে ওই সার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে ডিলারদের হাতে। কৃষকের এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফসল উৎপাদনের স্বার্থে জমাট বাধা এবং মেয়াদ উত্তির্ণ সার বাজেয়াপ্তের দাবি করেছেন বাংলাদেশ ফাটিলাইজার এসোসিয়েশন জেলা শাখা, সাধারন সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম।

গুদাম ঘুরে দেখা গেছে জমাট বাধা সার চুর্ণ করে পুনরায় বস্তাজাত করা হচ্ছে। এব্যপারে জানতে চাইলে জেলা সদরের বাফার গুামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্বিজেন্দ্র নাথ রায় ব্যাখ্যাসহ দাবি করেছেন বন্যার পানিতে ভিজে জমাট বাধলে ইউরিয়া সারের গুনগত মানের কোন ক্ষতি হবেনা। পারসেনটেন্স অনুযায়ী আগের মজুদ থেকে ডিলারদের কাছে সরবরাহ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি। ২শতাংশ টাটকা সারের সাথে ১ শতাংশ হারে জমাট বাধা সার মেশানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

এদিকে সারের গুনগত মান ঠিক রাখার স্বার্থে খোলা আকাশের পরিবর্তে সুরক্ষিত ব্যবস্থায় ইউরিয়া সংরক্ষনের বিষয়ে জেলা সার মনিটরিং কমিটির গেল সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর উপ পরিচালক সর্ট, তৌহিদুল ইকবাল। তবে সরকারের কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির কারন দেখিয়ে পানিতে ভেজা সারের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি তারা।

লাইভ প্রেস২৪/সালাহ উদ্দিন আহমেদ/বিএইচ

Share This: