গাইবান্ধার মরিচ চাষে লাখপতি হয়েছেন শত শত কৃষক

লাইভ প্রেস২৪,গাইবান্ধা: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলে এবার মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। কাঁচা মরিচ বিক্রির টাকায় চরাঞ্চলের কৃষকরা ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। মরিচ চাষ করে অনেকে লাখপতি বনে গেছেন। জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে এবার মরিচের চাষ হয়েছে। ভাদ্র মাসের শেষ এবং আশি^ন মাসের প্রথম সপ্তাহ মরিচ চাষের উপযুক্ত সময়। পৌষ-মাঘ মাসেই মরিচ বিক্রি করতে পারেন কৃষকরা। সরেজমিন দেখা যায়, ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত চরাঞ্চলীয় ইউনিয়ন ফুলছড়ি ইউনিয়নের গাবগাছি গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামান এ বছর ৬ বিঘা জমিতে বগুড়ার দেশি জাতের লম্বা মরিচ লাগিয়েছেন। জমিতে পরিমাণমতো গোবর সার ব্যবহার করার ফলে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে।

তিনি বলেন, তার ৬ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করতে প্রায় দেড় টাকা ব্যয় হয়েছে। ওই ৬ বিঘা জমি থেকে কাঁচা মরিচ উৎপাদন হবে প্রায় ৯০-১০০ মণ। বর্তমান বাজারে কাঁচা মরিচের মণ বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকায়। সে হিসেবে মরিচ বিক্রি হবে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। আবার ওই মরিচই যদি শুকানো যায় তাহলে ১৫-১৮ মণ শুকনো মরিচ হবে। পুরনো শুকনো মরিচের মণ বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। সে হিসেব অনুযায়ী, দাম হচ্ছে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে কাঁচা মরিচ শুকনো করতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় কৃষকদের। তাই অনেক কৃষক কাঁচা মরিচই বিক্রি করে দিচ্ছেন আর ওই টাকা দিয়ে ভুট্টা ও বোরো ধানের আবাদে খরচ করছেন। এদিকে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, ঢাকা থেকে বিভিন্ন কোম্পানি ও আড়তের লোকজন (মরিচ বেপারিরা) চরাঞ্চলে এসে মরিচের খেত দেখেন। যেসব মরিচ চাষি মরিচের খেত বিক্রি করতে ইচ্ছুক তাদের আবাদকৃত জমি আগাম কিনে নিচ্ছেন।

গাইবান্ধার সবচেয়ে বড় মরিচের হাট ফুলছড়ি। এটি নদীসংলগ্ন হওয়ায় প্রচুর মরিচের আমদানি হয়। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এ হাটে কাঁচা মরিচ কিনতে আসেন নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, রংপুর, বগুড়া, জয়পুরহাট থেকে মরিচের বেপারিরা। কারণ হিসেবে তারা জানান, ফুলছড়ির চরাঞ্চলের মরিচগুলোর ঝাল বেশি। প্রতি হাটে প্রায় ১৩০-১৪০ মণ কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে বলে জানান হাটের ইজারাদার। ফুলছড়ি দেলুয়াবাড়ী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুর রব্বানী জানান, যাদের জমি নেই তারাও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে মরিচ চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। মরিচ চাষ করে চরাঞ্চলের অনেক কৃষক এখন লাখপতি হয়েছেন। ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের পাগলার চরের মরিচ চাষি সাইফুল ইসলাম জানান, এবার মরিচের ফলন খুব ভালো হয়েছে। দামও একটু বেশি। মরিচ বিক্রি করে গত বন্যার ক্ষতি পুশিয়ে নেয়া যাবে বলে জানান তিনি।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান কোকিল বলেন, আমরা সব সময় কৃষকদের কাছে গিয়ে মরিচ চাষের বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেই। আমাদের পরামর্শ মোতাবেক কৃষকরা সার ও কীটনাশক ব্যবহার করায় এবার মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা কাওসার মিশু বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার চলতি মৌসুমে ফুলছড়ি উপজেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা মরিচের আবাদ করেছেন। মরিচের ফলনও বাম্পার হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভের ফলে চরাঞ্চলের কৃষকরা দিন দিন মরিচ চাষের দিকে ঝুঁকছে।

লাইভ প্রেস২৪/স্বজন ইসলাম/বিএইচ

Share This: