তামিমদের জন্য ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরার ‘ফিটনেস রুটিন’

লাইভ প্রেস২৪,ডেস্ক: করোনাভাইরাসের কারণে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা স্থগিত করা হয়েছে ১৮ মার্চ থেকে। ক্রিকেটাররা ঘরবন্দি হয়ে আছেন ১৮ দিন ধরে। হোম কোয়ারেন্টাইন যে আরও দীর্ঘ হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ পরিস্থিতিতে তামিমদের ফিটনেস নিয়ে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করছেন বিসিবির ‘হেড অব ফিজিক্যাল পারফরম্যান্স’ নিকোলাস ট্রেভর লি।

রোববার বিসিবির প্রধান ফিজিশিয়ান দেবাশীষ চৌধুরী জানান, ‘এক্সিট প্ল্যান’ নামে নতুন এ প্রোগ্রাম আজ চূড়ান্ত করা হবে। এটি মূলত ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরার ‘ফিটনেস রুটিন’।

হোম কোয়ারেন্টাইনের প্রথম এক সপ্তাহ হালকা অনুশীলন দেওয়া হয়েছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে প্রতিদিনের কাজগুলো আলাদা করে দেওয়া হয়। প্রতিদিনের রুটিন করে সেটা দেওয়া হয়েছে বিসিবির অফিসিয়াল ওয়েব (টাইগার ক্রিকেট.কম.বিডি) পোর্টালে। যাতে করে দেশের সব ক্রিকেটার ফিটনেসের কাজগুলো করতে পারেন।

‘এক্সিট প্ল্যান’ নিয়ে দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘ফিটনেস প্রোগ্রাম আপগ্রেড করা হচ্ছে। সময় বেড়েছে। নতুন সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেওয়া হচ্ছে ‘এক্সিট প্ল্যান’। কীভাবে আমরা বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসব এবং খেলোয়াড়দের মাঠে ফিরিয়ে আনব এটার একটা খসড়া তৈরি করা হয়েছে। কাল চূড়ান্ত করব। জিনিসটা হচ্ছে আমরা কীভাবে ধারাবাহিকভাবে খেলোয়াড়দের খেলায় ফিরিয়ে আনব। কতদিন লাগবে, কতদিন কী ধরনের ব্যায়াম করতে হবে। এতদিন না করলে কতদিন করতে হবে।’

দেশে দিন দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটি বাড়ানো হয়েছে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খেলাধুলা মাঠে ফেরার সুযোগ কম। সবকিছু মাথায় রেখে নতুন নতুন পরিকল্পনা করছেন বিসিবির ট্রেনার ও ফিজিওরা। উদ্দেশ্য খেলাধুলা মাঠে গড়ালে যেন সমস্যায় পড়তে না হয় ক্রিকেটারদের। যদিও মাঠের ফিটনেস ট্রেনিং ও ঘরের সীমিত পরিসরের ফিটনেস ট্রেনিংয়ে বিস্তর পার্থক্য।

করোনাভাইরাসের বিপদ দ্রুত কেটে গেলে বা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা দিয়েই মাঠে ফিরবে দেশের ক্রিকেট। প্রয়োজনে লিগ পর্বের খেলাতেই শেষ হবে মৌসুম। সুপার লিগ বা টি২০ টুর্নামেন্ট সূচি থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। সবই নির্ভর করবে সময়ের ওপর। খেলায় ফেরার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেটাররা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকলেও শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন। বিসিবির দেশীয় ট্রেনার ও ফিজিওদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রেখেছেন ক্রিকেটাররা।

ট্রেনার তুষার কান্তি হাওলাদার বলেন, ‘যেহেতু ঢাকা লিগ করার ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত আছে, সেক্ষেত্রে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্লাব ট্রেনারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কিছু কাজ দিয়েছি। ক্লাবের ট্রেনাররা ক্রিকেটারদের সেগুলো সরবরাহ করছেন।’

বিসিবির আরেক ট্রেনার ইফতেখার ইফতি জানান, মুস্তাফিজসহ কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে তার। খেলা বন্ধ রাখার ইতিবাচক দিকও দেখতে পাচ্ছেন ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম, ‘এই খারাপের ভেতরে ভালো দিক হলো, জাতীয় দলের যারা দীর্ঘ সময় বিশ্রাম পাচ্ছিল না, তাদের জন্য একটা বিরতি হয়ে গেল। খেলাধুলা শুরু হলে দীর্ঘ সময় বিরতিহীন খেলতে পারবে। আবার যারা নিয়মিত খেলায় ছিল না, তারা খেলতে পারছিল না। এদিক থেকে দেখলে ক্ষতি হচ্ছে। তবে এ বিরতি যেন দীর্ঘ না হয়।’

লাইভ প্রেস২৪/এসডি