এখন খাদ্য সংগ্রহই সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ !

 

শতাব্দী আলম : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী কার্যালয়ের সামনে আজ সোমবার বেলা ১১টায় টিসিবি পণ্য সংগ্রহের লাইন দেখে আমার বাইকের গতি থমকে দাঁড়ায়। আমরা আসলে কতটা সচেতন! আমি কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলাম ? ভাল করে লক্ষ্য করে আরো অবাক হলাম। ট্রাকে বসে যারা বিক্রি করছেন আর লাইনে দাড়ানো মানুষগুলো কারো মাঝেই বিকার নেই। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক আছে বলে মনে হলো না। কে কার আগে পণ্য নিবে সেই তাড়া। অথচ ক্রেতাও যে খুব বেশী তাহাও না। তারপরও আমাদের ধৈর্য্যচুত্যি। এটা আমাদের স্বভাবের দোষ। আমাদের স্বভাবই এখন সব থেকে বড় ঝুকির কারন। দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্য কিনলে কোন সমস্যা না। এভাবে গায়ে গা ঘেষে দাড়াবেন না। বলছি শুনুন। দয়া করে নিজেকে রক্ষা করুণ। পরিবারকে বাঁচান। দেশকে মহামারির কবল থেকে মুক্ত রাখুন।
এতো দেখলাম নিন্মবিত্তের লাইন। বাজারের পরিস্থিতিও কি পাল্টেছে ? আমি তেমন দেখি নি। সফিউদ্দিন বাজারের কথা বলছি। কি বলবো বাজারের গলি এমনভাবে বানানো যে দুইজন মানুষ হাটলেই গায়ে- গা লাগে। আর যারা আসছেন তারা নিজেরাও জানে না তিনি শরীরে মরণ ভাইরাস বহন করছেন কিনা। কারন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লক্ষণ বুঝতে ১৪ দিন অপেক্ষা করতে হয়। তাহলে বাজারে নিত্যপণ্য খাদ্য কিনতেও মানুষ মরণ ভাইরাসে সংক্রমণের ঝুকিতে আছেন। আর জেনে শুনেও অধিকাংশ মানুষ যাচ্ছেন। আমি যাচ্ছি না। দুর থেকে ফাকা কোন দোকানে কেনার চেষ্টা করি। অথবা বাজারের পাশে বা গলির ভ্যান থেকে সংগ্রহ করছি। খাদ্য কিনতে গিয়ে সর্তক হোন। এটা সত্য খাদ্য কিনতে যেতেই হবে। এ ছাড়া বাঁচা যাবে না। বার বার বলছি খাদ্য কিনতে গিয়ে ভাইরাস যাতে ঘরে না ঢুকে। সেদিকে নজর দিন। কয়েকদিনের পণ্য একসাথে কিনুন। খাদ্য কেনাই যেন আপনার কাল না হয়। পরিবারের সর্বনাশ ডেকে আনবেন না। আর সরকারের পরিসংখ্যানে আক্রান্ত হিসাবটাও বাড়তে দিয়েন না।
ত্রাণ বিতরণ ও বেশ ঝুকিপূর্ণ পদ্ধতিতে হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সচেতনতা লক্ষ্য করছি। আমি টঙ্গীতে থাকি। শিল্প এলাকা হওয়ায় দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় এখানে অভাবি মানুষ বেশী। শিল্প এলাকা ঘিরে ছোট ছোট ব্যবসার প্রসারও বেশী। এখন সেইসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা দিন মজুরদের সব কাজ বন্ধ। সে কারনে হাজার হাজার ব্যাগ খাদ্য সহায়তাও যথেষ্ট হচ্ছে না। যেখানে খাদ্য সামগ্রী বিলির খবর আসে। সেখানেই মানুষ ভির করছেন। আর মানুষের ভির মানেই গায়-গা ঘেষাঘেষি। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো আরো বেশী আত্মকেন্দ্রীক। বন্ধু বা প্রতিবেশীর সাথে গলাগলি ধরে আসে। এ যেন করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রতিযোগীতা। সেলফি আর লাইভবাজ নেতাদের কথা কি আর বলবো। সরকারি ত্রাণ বিলি করে তারা যেন গোষ্ঠি উদ্ধার করেছেন। নিজেরা দল বেধে সাথে খাদ্য যিনি গ্রহন করছেন তাকেও জড়ান। একেবারে জাড়াজড়ি অবস্থা।
ভাই ও বোনেরা অনেক দেরি হয়েছে। তার মানে শেষ নয়। এখনো সময় আছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে এসব কাজ সম্পাদণ করুন। খাদ্য সংগ্রহ বা খাদ্য বিলি সবকিছুই করতে হবে। তবে নিজ, পরিবার ও দেশকে রক্ষা করে। আসুন সচেতন হই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে এসব কাজ করুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। বাংলাদেশ চিরজীবি হোক।

লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক