ধামরাইয়ে খাবারের অভাবে লোকালয়ে ঘুরছে বানর | Live Press24

ধামরাইয়ে খাবারের অভাবে লোকালয়ে ঘুরছে বানর

Published on: 10:35 pmApril 24, 2020

 

 # মাহবুবুল আলম #  প্রায় ৪শত বছরের বেশি সময় ধরে ঢাকার ধামরাইয়ে মানুষের সঙ্গে লোকালয়ে বাস করে আসছে বানরের পাল। সাধারণ মানুষের দেয়া খাবার, বাজারের উচ্ছিষ্ট খেয়েই বেঁচে আছে তারা। তবে সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের কারণে হাট-বাজার সীমিত করা হয়েছে। বাইরেও আসছেন কম মানুষ। এতে করে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে বানরদের। একারণে ভাইরাসের আতঙ্কে শূণ্য বাজারে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখেই খাবারের আশায় ক্ষুধার্ত বানরগুলো নির্বাক চোখে তাকিয়ে থাকে। হয়তোবা কারো দয়া হতে পারে কেউ খাবার দিবে।অভূক্ত বানরের ক্ষুধার জ্বালা যেন কেউই শুনছে না।

স্থানীয়রা জানান, ধামরাইয়ের বাজার এলাকায় ক্রমেই কমে আসছে বানরের সংখ্যা। উপজেলাজুরে দোকানের টিনের ছাঁদ, মানুষের আবাসের ঘর, বিভিন্ন পরিত্যক্ত স্থান বা গাছে আস্তানা গড়ে বাস করছে বানররা। বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে পরিচিত এই বানর। এদের বাসস্থান বা খাবারে বেশ বৈচিত্র রয়েছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের রয়েছে দীর্ঘদিনের সখ্যতা। একারণে স্থানীয় দোকানিরাও বানরদের খাবার দিত। তবে এবার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সীমিত আকারে বাজার চালু থাকায় তাদের চাহিদামত খাবারেরও ব্যবস্থা হচ্ছে না।

ধামরাই পৌর এলাকার বাসিন্দা আনিস উর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় ১ মাস ধরেই খাবারের দোকান বন্ধ রয়েছে। মানুষও খুব বেশি বের হচ্ছে না। ফলে বাইরে থেকে বানরের খাবারের সংকুলান করা যাচ্ছে না। বেশিরভাগ সময়ই বানরগুলো অভূক্ত থাকছে।খাবারের কারণে বানরগুলো পৌর শহর থেকে লোকালয়ে আসতে শুরু করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ধামরাই চন্দ্রাইল এলাকায় কয়েকটি বানর লক্ষ করা যায়।তারা বাড়ির উপর, মসজিদের পানির ট্যাঙ্কের উপর বসে আছে।নিরবে কাদছে কেউ খাবার দেয় কি না।মা বানরটি তার ছোট বাচ্চা নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা মাসে দু’ একবার নিজের বেতনের টাকা দিয়ে বেকারী হতে বানরদের রুটি কিনে খাওয়াতো।কিন্তু এখন বেকারী বন্ধ। আবার ঘর থেকে বের হই কম তাই আর খাওয়ানো হয় না।অভূক্ত এই প্রাণীদের দেখে মায়া হয়, তিনি নিজেও করোনার সময়ে দুই দিন যৎসামান্য কলা রুটি কিনে বানরদের দিয়েছেন। ইতিপূর্বে এই এলাকায় মানুষ ও বানর একসাথে বসবাস করে আসলেও এখন অসহায় হয়ে পড়ছে বানরগুলো।

স্থানীয়বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য হারানোর কারনে প্রকৃতি থেকে খাবার গ্রহনের কোন ধরনের সুযোগ বানরের নেই। এখন যদি তাদের জরুরী ভিত্তিতে খাবারের ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে একদিকে বানরগুলো আক্রমনাত্মক হয়ে উঠবে,অপরদিকে বিপন্ন হয়ে যাবে এই এলাকার বানর।

এবিষয়ে ধামরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, এ মুহুর্তে বানরের খাবার সহায়তা দেয়ার মত কোন বরাদ্দ আমাদের নেই। তবু প্রাণী বলে কথা, তাই প্রকৃতি থেকে খাবারের কোন ব্যবস্থা না থাকা ও করোনর প্রভাবে অভূক্ত থাকায় মানবিক দিক বিবেচনায় বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এবিষয়ে ধামরাই পৌরসভার মেয়র গোলাম কবির মোল্লা বলেন, করোনার দুর্যোগের কারণে অনেক মানুষই অভুক্ত রয়েছেন। আমরা সেটা নিয়েই সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি। আগে স্থানীয় বেকারিগুলো থেকে বানরের খাবার সংস্থান করা হতো। এখন বেশিরভাগ বেকারিই বন্ধ। তবুও আমরা কিছু খাবার দেয়ার চেষ্টা করছি। আরও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।আমরা মানুষ যদি না খেয়ে না মরি তবে ধামরাইয়ের ঐতিহ্য বানরও মরবে না।

তবে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সামিউল হক বলেন, পূর্বে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বানরের জন্য একটি টিয়ার বরাদ্দ করা হতো।আবার অনেকে ব্যক্তিগতভাবেও খাবার কিনে দিতো।তবে এখন করোনার কারণে অসহায় মানুষ যেমন অভূক্ত রয়েছে অনেকে তেমনি বানরেরও অবস্থা। যাই হোক আমরা ধামরাইয়ের ঐতিহ্য বানরের খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছি।উর্ধতন কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

 

আরও পড়ুন

কালামপুর সাব-রেজিষ্টার অফিস দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ফজলুল হক ও সাধারণ সম্পাদক পদে বদরুল আলম নির্বাচিত
ধামরাইয়ে ছুরিকাঘাতে সাংবাদিক হত্যা
ধামরাই উপজেলা আ’লীগের সাঃ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু করোনায় আক্রান্ত
কুয়েতে মা এবং বোনের মৃতুতে মানিকগঞ্জ এসোসিয়েশন অব ধামরাইয়ের শোক প্রকাশ
ধামরাইয়ে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় প্রধান শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
ধামরাইয়ে বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও গণভোজের আয়োজন অনুষ্ঠিত।
ধামরাইয়ে যাদবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ত্রাণ সামগ্রীসহ গ্রেফতার
ধামরাইয়ে খাবারের অভাবে লোকালয়ে ঘুরছে বানর
৪ শত পরিবারের পাশে ডিলিংক পরিবহন কর্তৃপক্ষ
ধামরাইয়ে ধান কেটে কৃষকের বাড়ি পৌঁছে দিল উপজেলা ছাত্রলীগ