দেশীয় করোনার ভ্যাকসিনে ধারাবাহিক সাফল্য! | Live Press24

দেশীয় করোনার ভ্যাকসিনে ধারাবাহিক সাফল্য!

Published on: 2:03 amJuly 5, 2020

লাইভ প্রেস২৪ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে মহামারি করোনা-ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, রাশিয়া ও ভারতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। তবে কোনোটিই এখনো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জনসাধারণ পর্যায়ে ভ্যাকসিন পেতে আরো কয়েক মাস লেগে যেতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন।

এদিকে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারে থেমে নেই বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টা । বাংলাদেশি করোনা ভ্যাকসিন খরগোশের শরীরে দুই দফা প্রয়োগে অ্যান্টিবডি তৈরিতে সফল হয়েছে। এখন দ্বিতীয় ধাপে নিয়ন্ত্রিতভাবে ইঁদুরের ওপর আবারও প্রয়োগ করা হবে। এ জন্য ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগবে। ইঁদুরের দেহে ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হবে। এক্ষেত্রে মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের ইথিক্যাল কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদিত প্রোটোকল ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হবে। সফল হলে বাজারে ভ্যাকসিনটি নিয়ে আসার জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনুমোদন দেবে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির এই কাজটি করছে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিডেট। এটি দেশের অন্যতম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। গ্লোব বায়োটেক লিমিডেটের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ড. কাকন নাগ ও চিফ অপারেটিং অফিসার ড. নাজনিন সুলতানার তত্ত্বাবধানে এই ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে।

গ্লোব বায়োটেক লিমিডেটের আরো ৯ জন কর্মকর্তা ভ্যাকসিন তৈরির কাজে জড়িত। তারা হলেন ড. মো. মহিউদ্দিন, ড. আসিফ মাহমুদ, জুয়েল চন্দ্র বাড়ৈই, মাকসুদুর রহমান, ফখরুল ইসলাম, রনি রায়, মোবারক হোসেন চৌধুরী, জিকরুল ইসলাম ও সমীর কুমার। তারা বলেন, করোনা ভাইরাসের এই ভ্যাকসিন আবিষ্কারে সফল হওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। তবে স্বাস্থ্য প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করে তারা বলেন, ওরস্যালাইন আবিষ্কার করেছিল বাংলাদেশ। এখন এটি সারা বিশ্বে চলছে। করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেও বাংলাদেশ বিশ্বে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনসিবিআইর (ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন) ভাইরাস ডাটাবেজ অনুযায়ী গত ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) ৫ হাজার ৭৪৩টি সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স জমা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জমা হয়েছে ৭৬টি। ঐ সিকোয়েন্সগুলো বায়োইনফরমেটিক্স টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করে গ্লোব বায়োটেক তাদের ভ্যাকসিনের টার্গেট নিশ্চিত করে। ঐ টার্গেটের সম্পূর্ণ কোডিং সিকোয়েন্স যুক্তরাষ্ট্রের এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজে জমাও দেওয়া হয়। এটা ইতিমধ্যে এনসিবিআইর স্বীকৃতি পেয়েছে। এ সিকোয়েন্স বায়োইনফরমেটিক্স টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করে গ্লোব বায়োটেক তাদের টিকার টার্গেট নিশ্চিত করে। এটা যৌক্তিকভাবে এই ভৌগোলিক অঞ্চলে অধিকতর কার্যকরী হবে বলে তারা আশাবাদী।

এর আগে বিশ্বের ১০টি দেশের প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়। ১১তম দেশ হিসেবে যুক্ত হলো বাংলাদেশ। দশম দেশ হিসেবে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছিল ভারত।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করলে যে সফল হন এটা তার প্রমাণ। দেশে করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে বিশাল কর্মযজ্ঞ সৃষ্টি হবে। বিশ্বব্যাপী দেশের সুনাম হবে।

লাইভ প্রেস২৪/এফএ

আরও পড়ুন

‘করোনা বুলেটিন বন্ধ না করে সপ্তাহে দুই দিন করার আহ্বান’
করোনায় আক্রান্ত রুমিন ফারহানা
কোকোর কবর জিয়ারতে বিএনপি নেতাদের পুলিশি বাধা
নতুন পাসপোর্ট যখন থেকে পাওয়া যাবে
ইউএস-বাংলার ঢাকা- কুয়ালালামপুর ফ্লাইট শুরু ১৬ আগস্ট
কারাগারে থেকে ফেসবুকে ‘অ্যাকটিভ’ লিয়াকত!
শীতে করোনার প্রকোপ আরও বাড়তে পারে
‘বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব যেকোনো সময়ের চেয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ’
ঢাকার দুই আসনের উপ-নির্বাচনে ছাড় দেবে না বিএনপি
অবশেষে বাতিল হচ্ছে পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা