যেভাবে মিন্নি সাক্ষী থেকে আসামি অতঃপর মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত | Live Press24

যেভাবে মিন্নি সাক্ষী থেকে আসামি অতঃপর মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত

Published on: 7:03 pmSeptember 30, 2020

লাইভ প্রেস২৪ : রিফাত হত্যাকাণ্ডটি জঘন্য ও ন্যাক্কারজনক। এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় আয়শা যুক্ত ছিলেন। ঘটনার সময় আয়শা তাঁর স্বামীকে রক্ষার করতে গিয়েছেন, এটা সিম্পেথি আদায়ের কৌশল ছিল বলে প্রতীয়মান। আয়শা তাঁর স্বামী রিফাতকে কোপানোর সময় রিফাতকে রক্ষার চেয়ে নয়ন বন্ডকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রতীয়মান।

আজ রিফাত হত্যা মামলার রায়ে আদালত এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) ভূবন চন্দ্র হালদার। আর মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, আয়শার পরিকল্পনায় এবং তাঁর কারণেই এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। এতে বলা বলা হয়েছে, হত্যার আগে আয়শা মামলার মূল আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে এক মাসে ৪৪ বার এবং নয়ন বন্ড আয়শার সঙ্গে ১৬ বার ফোনে কথা বলেছেন। এ ছাড়া অসংখ্যবার খুদে বার্তা চালাচালি করেছেন।

যেভাবে সাক্ষী থেকে আসামি
রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর দেশজুড়ে বিষয়টি বেশ আলোড়িত হয়। এরপর এই হত্যা মামলাকে ঘিরে এ আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা ওরফে মিন্নি সাক্ষী থেকে আসামি হওয়ার ঘটনা।

গত বছরের ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স্ত্রী আয়শার সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা ঘটনার পর ২৭ জুন এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে প্রধান সাক্ষী করা হয় আয়শাকে। মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড ওই বছরের ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। নয়ন বন্ড নিহত হওয়ার পরপরই বদলে যেতে থাকে মামলার দৃশ্যপট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই হত্যায় আয়শাকে দায়ী করে বিভিন্নভাবে প্রচার শুরু হয়। মামলার ১৮ দিন পর ১৩ জুলাই এ হত্যাকাণ্ডে আয়শা জড়িত, এমন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন আয়শার শ্বশুর আবদুল হালিম শরীফ। পরদিন আয়শার গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন তাঁরা।

এরপর মামলার তদন্ত নাটকীয় মোড় নেয়। ১৬ জুলাই আয়শাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বাড়ি থেকে বরগুনা পুলিশ লাইনসে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে আয়শার বাবা মোজ্জামেল হোসেন শুরু থেকেই আয়শার গ্রেপ্তার এবং এ মামলায় তাঁকে আসামি করার ঘটনাকে প্রভাবশালী মহলের কারসাজি বলে দাবি করে আসছেন। এরপর নিম্ন আদালতে কয়েক দফা জামিন আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর উচ্চ আদালতে আয়শার পক্ষে জামিন আবেদন করেন উচ্চ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আইখান পান্না। গত বছরের ২৯ আগস্ট বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আয়শাকে জামিন দেন। জামিন আদেশে বলা হয়, আয়শা তাঁর বাবার জিম্মায় থাকবেন এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। এর ব্যত্যয় হলে জামিন বাতিল হবে। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ‘নো অর্ডার’ দেন। এতে আয়শার জামিনের আদেশ বহাল থাকে। রায় ঘোষণার আগপর্যন্ত তাঁর জামিন বহাল ছিল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা থানার তৎকালীন পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে আদালতে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে আসামি করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে আয়শাকে এ মামলায় ৭ নম্বর আসামি করা হয়। এরপর প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিচার শুরু হয় জেলা ও দায়রা আদালতে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিচারকাজ চলছে শিশু আদালতে।

লাইভ প্রেস২৪/আশিক ইমরান

আরও পড়ুন

৩৮তম বিসিএস: নন ক্যাডারে নিয়োগ পাচ্ছেন ৫৪১ জন
দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি কমছে
আলুর দাম বাড়িয়েছে সরকার…
সরকার ধর্ষক ও দুর্বৃত্তদের পৃষ্ঠপোষক : ভিপি নুর
‘১০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করছে সরকার’
দেশজুড়ে চলছে অনির্দিষ্টকালের ‘নৌযান’ ধর্মঘট
আজ ৫৪ উপজেলায় ব্যাংক বন্ধ
৩৫টি ড্রেজারের জন্য আবদার ৪৯৮৭ কোটি টাকা!
রাজধানীর পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি বন্ধ
নির্বাচন কমিশন একটা ঠুঁটো জগন্নাথ : মির্জা ফখরুল