দেশে করোনার হানা, তবুও ‘মাস্ক’ নিয়ে মানুষের বাহানা | Live Press24

দেশে করোনার হানা, তবুও ‘মাস্ক’ নিয়ে মানুষের বাহানা

Published on: 12:03 pmNovember 28, 2020
ফাইল ফটো। 

লাইভ প্রেস২৪,ঢাকা : রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢোকার পরই মনে হলো করোনাভাইরাস বুঝি পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে। কারও মুখে মাস্ক নেই। নেই সামাজিক দূরত্বের বালাই। একই দৃশ্য মহাখালীর টিবি গেইটের সামনেও। সেখানে ক্যান্সার হাসপাতাল, গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট, বক্ষ্যব্যাধি হাসপাতালসহ বেশ কিছু হাসপাতাল আছে। কিন্তু বুধবার ( ২৫ নভেম্বর) সেখানে গিয়ে দেখা গেল কারও মুখে মাস্ক নেই। হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর জায়গাতেও দেখা গেল কেউ থুতনিতে মাস্ক ঝুলিয়ে ঘুরছেন। কেউ মাস্ক হাতে নিয়ে কথা বলছেন মোবাইলে মুখে মাস্ক নেই কেন জানতে চাইলে ফরিদ উদ্দিন বলেন, মাস্ক পরে মোবাইল ফোনে কথা বলা যায় না, অন্য পাশ থেকে শুনতে পায় না।

হাসপাতালগুলোর পাশেই চায়ের দোকান। যথারীতি সেখানেও গল্প করা কারও মুখে মাস্ক দেখা গেল না । রিকশাচালক শরীফ জানালেন, মাস্ক পরলে গরম লাগে, হাঁপিয়ে উঠি। রিকশা চালানো যায় না। খানিকপর মোটরবাইক থেকে নামলেন দুই তরুণ। একজনের মুখে মাস্ক নেই। আরেকজনেরটা থুতনিতে নামানো। মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে বলেন, মাস্ক পরে হেলমেট পরা যায় না। অস্বস্তি হয়। আরেকজন ভুল করে বাসায় মাস্ক ফেলে এসেছেন।দেশজুড়ে যখন করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ থেকে বাঁচার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার, একের পর এক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তখন মাস্ক পরার প্রতি মানুষের অনীহাও যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। অজুহাতেরও শেষ নেই।

শীতে করোনা-সঙ্কট আরও বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এমন অবস্থায় ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস‘ নীতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার।মন্ত্রিপরিষদ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়ে সাত দফা ছুটি বাড়াল। প্রতিবার প্রজ্ঞাপনেই মাস্ক ছাড়া বাইরে বের হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারসহ শর্তসাপেক্ষে অফিস খোলা হয়, গণপরিবহনও চালু হয়। তারপরও ভ্রূক্ষেপ নেই কারও।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮ অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৩১ মে নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘লকডাউন উঠে গেছে। এখন সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। সঠিকভাবে মাস্ক পরতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।’

লোকারণ্য নিউ মার্কেট এলাকা, স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা নেইএরপর কেটেছে চার মাস। মাঝে সংক্রমণ কিছুটা কমে এলেও আবার তা বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২০ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মারা গেছেন ছয় হাজার ৫৪৪ জন। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ২৭৩ জন। সরকারি হিসাবে মোট শনাক্ত চার লাখ ৫৮ হাজার ৭১১ জন। ২৩ নভেম্বর করোনা ভাইরাসে শনাক্ত হন দুই হাজার ৪১৯ জন,যা কীনা তার আগের ৮১ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ আর মারা যান ২৮ জন। এ ধারাবাহিকতায় এশিয়ায় সক্রিয় রোগীর তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে চলে আসে বাংলাদেশ।

ওই দিনই স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা ইদানীং কিছুটা বেখেয়ালী হয়ে গেছি। মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মানার মতো স্বাস্থ্যবিধিসহ নিয়ম-কানুন মানছে না মানুষ। যে কারণে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বেড়েছে।’সংক্রমণ ঠেকাতে নাগরিকদের মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর হবে সরকার, জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নাগরিকদের মাস্ক পরার বিষয়টি আরও বেশি করে প্রচার করার জন্য।খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে জরিমানায় কাজ না হলে, শাস্তি আরও কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এখনও জানি না ভ্যাকসিন কবে আসবে বা আদৌ আসবে কি না। আর সেটা এলেও কতটুকু কার্যকর হবে কিংবা তা দিয়ে কতদিন করোনা প্রতিরোধ করা যাবে সেসবই অজানা। অথচ সবাই মাস্ক পরাসহ শারীরিক দূরত্ব মেনে বললে করোনাকে অনেকটা প্রতিরোধ করা যায়।’

‘রাস্তায় বের হলে কারও মুখে মাস্ক দেখি না’ এমন আক্ষেপ করে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কেউ যেন পাত্তাই দিচ্ছে না করোনাকে। মানুষের মন থেকে ভয় উঠে গেছে। অথচ সামনে শীতকাল। রোগী এখনই বাড়তে শুরু করেছে। সচেতন না হলে ভয়ানক বিপদ অপেক্ষা করছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের নো মাস্ক, নো সার্ভিস বাস্তবায়ন করতে হবে। দোকান মালিক সমিতির নো মাস্ক, নো সেল কেবল কাগজে-কলমে থাকলেই হবে না, মার্কেটগুলোতে এর কঠিন বাস্তবায়ন করতে হবে। মনিটর করতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কারও উপসর্গ থাকলে তাকেই শনাক্ত করে আমরা আইসোলেশনে নিচ্ছি। কিন্তু যার উপসর্গ নেই তাকে আক্রান্ত বলে ধরছি না। তাই কে আক্রান্ত আর কে আক্রান্ত নন, সেটা না ধরে প্রত্যেকের মাস্ক পরা উচিত এবং সঠিকভাবেই পরা উচিত।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রংপুর, লালমনিরহাট ঘুরে এলাম কদিন আগে। সেখানে মাস্ক পরাটাই যেন অপরাধ। কেউ মাস্ক পরছে না। ১৭ কোটি মানুষকে তো আইন দিয়ে বাধ্য করা সম্ভব নয়। তাই এখন মাস্ক পরে যে করোনাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেটা মানুষকে দেখাতে হবে। এজন্য দরকার, করোনার প্রকৃত অবস্থা জানা। কোথায় কতটুকু সংক্রমণ হচ্ছে তা জানা। সরকার যেখানে ব্যবস্থা নিচ্ছে সেখানে সফলতা আসছে এমন কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানো দরকার। তা হলে মানুষ কিছুটা আগ্রহী হবে।’

অধ্যাপক বে-নজির আরও বলেন, ‘আগে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, ঘর থেকে বের না হওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, এখনও তাই করতে হবে।মানুষ যখন স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজ দায়িত্বে মাস্ক পরবে তখন আর আইন দরকার হবে না। কিন্তু মানুষকে উদ্বুদ্ধ না করে, জননেতাদের যুক্ত না করে কোনও উদ্যোগ সফল হবে না। মাস্ক পরার উদ্যোগকে গণজাগরণে পরিণত করতে হবে।

লাইভ প্রেস২৪/টিআই

আরও পড়ুন

করোনা কেড়ে নিল আরও ৩৮ প্রাণ
‘সীমান্ত হত্যা নিয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্য স্বাধীনতা বিরোধী’
ইসি নিয়ে ৪২ বুদ্ধিজীবীর বক্তব্য বিএনপির ড্রাফ্ট: তথ্যমন্ত্রী
এবার দিল্লিতে তাপমাত্রা নামল ৩ ডিগ্রিতে
জাপানে তুষারপাতে ১০ মাইল দীর্ঘ যানজট
আগামীকাল ১১ ডিগ্রিতে নামতে পারে ঢাকার তাপমাত্রা
আবারও বোমা পাওয়া গেল শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে
ফের বেড়েছে চাল-তেল-আলু-ময়দার দাম
বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছে : কাদের
কোভিড-১৯ : মৃত্যু ২৫ জনের, শনাক্ত ১২৬৭