মে ২৪, ২০২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আসন্ন রমজানে তুরস্কের হায়া সোফিয়া মসজিদে তারাবিহর নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। আর এটিই হতে যাচ্ছে হায়া সোফিয়ায় ৮৮ বছর পর প্রথম তারাবিহর নামাজ। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদলু এজেন্সি এবং টেলিভিশন চ্যানেল টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

আনাদলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইস্তাম্বুলের হায়া সোফিয়া মসজিদটিকে ১৯৩৪ সালে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছিল। এরপর ২০২০ সালে এটিকে আবার মসজিদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেয় তুরস্কের এরদোয়ান সরকার। সে বছরের ২৪ জুলাই নামাজের জন্য উন্মুক্ত করা হয় মসজিদটি।

দুই বছর আগে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে গেলে ঝুঁকি এড়াতে মসজিদটিতে নামাজ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। ফলে এই মসজিদে রমজানের সময় তারাবিহর নামাজ আদায়ের সুযোগ পাননি ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। এখন তুরস্কে বেশির ভাগ মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় মসজিদটি পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার হায়া সোফিয়ায় প্রথম তারাবিহ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পবিত্র রমজান মাসজুড়ে হায়া সোফিয়ায় নানা আয়োজন থাকবে।

হায়া সোফিয়া ৫৩২ সালে নির্মিত হয়েছিল। তুর্কি সুলতান মাহমুদ ফাতাহ ১৪৪৩ সালে ইস্তাম্বুল বিজয়ের পর এটিকে মসজিদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তার আগে এটি প্রায় ৯১৬ বছর গির্জা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এ ছাড়া ৮৬ বছর যাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে ১৪৫৩ সাল থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বছর এটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো হায়া সোফিয়াকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। তুরস্কের পর্যটন আকর্ষণের মধ্যে অন্যতম এই হায়া সোফিয়া মসজিদ। যেটি দেখতে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক আসেন। দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য এটি খোলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১০ জুলাই তুরস্কের আদালত হায়া সোফিয়াকে জাদুঘর বানানোর ডিক্রি বাতিল করে মসজিদে ফিরিয়ে আনার পক্ষে রায় দেয়। একই বছরের ২৪ জুলাই থেকে হায়া সোফিয়ায় জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৮৮ বছর পর এবার সেখানে হতে যাচ্ছে তারাবির নামাজ।

মসজিদে রূপান্তর হলেও হায়া সোফিয়াতে থাকা খ্রিস্টীয় কারুকার্য ও প্রাচীর চিত্রগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে। নামাজের সময় এগুলো ঢেকে রাখা হয়।